সৌদি আরবে গত জুলাই মাসে চালু হওয়া মাল্টিপল-এন্ট্রি ওমরাহ ভিসার মেয়াদ ইস্যুর তারিখ থেকে ৩৬৫ দিন পর্যন্ত কার্যকর থাকে। এই দীর্ঘ মেয়াদী ভিসার আওতায় একজন ওমরাহযাত্রী চাইলে একাধিকবার সৌদি আরবে প্রবেশ করতে পারেন। তবে এই সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু সুনির্দিষ্ট ও গুরুত্বপূর্ণ শর্ত মেনে চলা বাধ্যতামূলক। গালফ নিউজের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের বরাতে জানানো হয়েছে যে, কেবল বৈধ ভিসা থাকলেই যেকোনো সময় সৌদি আরবে প্রবেশ করা সম্ভব নয়। প্রতিবার ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে দেশটিতে যাওয়ার আগে যাত্রীদের নুসুক প্ল্যাটফর্মে অনুমোদিত সেবা প্রদানকারীর মাধ্যমে নতুন করে সার্ভিস প্যাকেজ বুক করতে হবে।
সার্ভিস প্যাকেজটি এমনভাবে নির্বাচন করতে হবে যেন তা ভ্রমণের তারিখের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় এবং ভিসার অবশিষ্ট মেয়াদের মধ্যে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়। শুধু সার্ভিস প্যাকেজ বুক করাই যথেষ্ট নয়, এর পাশাপাশি নুসুক অ্যাপের মাধ্যমে আলাদাভাবে ওমরাহ পারমিট সংগ্রহ করাও বাধ্যতামূলক। এই পারমিটের তারিখ অবশ্যই সার্ভিস প্যাকেজে উল্লেখিত সফরের তারিখের সঙ্গে মিল থাকতে হবে। অর্থাৎ, ভিসার মেয়াদ থাকা সত্ত্বেও প্রতিটি সফরের জন্য আলাদাভাবে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা জরুরি। যারা প্রথমবার আবেদন করছেন, তাদের ক্ষেত্রে নুসুকের মাধ্যমে সার্ভিস প্যাকেজ কেনার পর ওমরাহ ভিসার আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে ভিসা অনুমোদিত হবে।
ভ্রমণকারীদের মনে রাখতে হবে যে, এক বছরের ভিসার মেয়াদ মানে এই নয় যে পুরো বছরই দেশটিতে অবস্থান করা যাবে। একাধিকবার সৌদি আরব ভ্রমণ করলেও দেশটিতে মোট অবস্থানের সময়কাল কোনোভাবেই ৯০ দিনের বেশি হতে পারবে না। মন্ত্রণালয়ের এই ব্যাখ্যার মূল উদ্দেশ্য হলো ওমরাহযাত্রীদের জন্য পুরো প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ রাখা এবং প্রতিটি সফরের জন্য আবাসন ও পরিবহনের মতো প্রয়োজনীয় সেবা আগে থেকেই নিশ্চিত করা। যারা এক বছরের মধ্যে একাধিকবার ওমরাহ পালনের পরিকল্পনা করছেন, তাদের প্রতিটি সফরের আগে নতুন করে সার্ভিস প্যাকেজ বুকিং এবং ওমরাহ পারমিট নেয়ার প্রক্রিয়াটি যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে। এছাড়া সৌদি আরবে প্রবেশের ক্ষেত্রে দেশটির অন্যান্য সাধারণ ভ্রমণ শর্তাবলীও পূরণ করা আবশ্যক।



