অবসর ভেঙে মাঠে ফিরছেন রোনালদিনিও, জানা গেল অভিষেকের দিন

, খেলা

অবসর ভেঙে মাঠে ফিরছেন রোনালদিনিও, জানা গেল অভিষেকের দিন

ফুটবল মাঠের জাদুকর রোনালদিনিও আবারও বুট জোড়া পায়ে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় পেশাদার ফুটবল থেকে দূরে থাকার পর ৪৬ বছর বয়সী এই ব্রাজিলিয়ান তারকা ইতালির সিরি সি লিগের ক্লাব রাভেন্নার হয়ে মাঠে নামবেন। গত জুন মাসে ক্লাবটির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার পর থেকেই তার ফেরার অপেক্ষায় ছিলেন ফুটবলপ্রেমীরা। শুক্রবার ক্লাবের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, আগামী ১৫ নভেম্বর ফোর্লির বিপক্ষে হাইভোল্টেজ ডার্বি ম্যাচে প্রথমবারের মতো রাভেন্নার জার্সিতে মাঠে দেখা যাবে তাকে। ব্রাজিলের কিংবদন্তি রোনালদিনিও আবার ফুটবল বুট পায়ে মাঠে নামছেন। অবসরের এক দশকের বেশি সময় পর তিনি খেলবেন ইতালির তৃতীয় বিভাগে। কিন্তু এখনো তিনি রাভেন্নার হয়ে মাঠে নামেননি।

এই প্রত্যাবর্তন নিয়ে ক্লাব কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এটি এমন একটি ঘটনা যা পুরো বিশ্বের নজর স্তাদিও ব্রুনো বেনেল্লির দিকে টেনে আনবে। অনেকে এটিকে অবিশ্বাস্য মনে করলেও এখন একটি বড় সাফল্যের কথা নিশ্চিত করা যাচ্ছে। ফুটবল বিশ্ব আবারও সেই প্রতিভা ও জাদুকরী হাসির সাক্ষী হতে যাচ্ছে, যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ভক্তদের মুগ্ধ করে রেখেছে। ক্লাব প্রেসিডেন্ট ও বিখ্যাত চিপ্রিয়ানি রেস্তোরাঁ ব্র্যান্ডের মালিক ইনয়াৎসিও চিপ্রিয়ানির স্বপ্ন, রোনালদিনিও যেন রাভেন্নার হয়ে তার ক্যারিয়ারের শেষ গোলটি করেন। ক্লাব আরও লিখেছে, ‘পুরো ফুটবল বিশ্ব ভেবেছিল, এটা সত্যি হওয়ার মতো নয়। কিন্তু এখন আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে একটি বড় প্রত্যাবর্তনের কথা জানাতে পারছি।

আগস্ট মাসের মাঝামাঝি সময়ে সমুদ্রসৈকতে এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সমর্থকদের সঙ্গে রোনালদিনিওর পরিচয় করিয়ে দিয়েছিল ক্লাবটি। সেই থেকেই রোমাঞ্চ, কৌতূহল ও কিছুটা অবিশ্বাসের দোলাচলে ছিলেন ভক্তরা। ইতালির সীমানা পেরিয়ে বিশ্বজুড়ে এই প্রত্যাবর্তনের বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। বর্তমানে সিরি সি লিগে নিজেদের গ্রুপে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে রাভেন্না। রোনালদিনিওর যোগ দেওয়া ক্লাবটির জন্য নতুন এক অধ্যায় উন্মোচন করতে যাচ্ছে বলে আশা করা হচ্ছে।

স্মরণযোগ্য যে, রোনালদিনিও শেষবার পেশাদার ফুটবলে মাঠে নেমেছিলেন ২০১৫ সালে ফ্লুমিনেন্সের জার্সি গায়ে।

তার বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের উল্লেখযোগ্য অংশজুড়ে আছে ইউরোপের ক্লাব ফুটবল। ২০০৮ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত তিনি ইতালির জায়ান্ট এসি মিলানে খেলেছেন। এছাড়া তার ক্যারিয়ারের স্বর্ণালি সময় কেটেছে বার্সেলোনা ও প্যারিস সেইন্ট জার্মেইঁতে। আন্তর্জাতিক ফুটবলে ২০০২ সালে বিশ্বকাপ জয় এবং ২০০৫ সালে ব্যালন ডি’অর জয়ের মাধ্যমে তিনি ফুটবলের ইতিহাসে নিজের নাম অমর করে রেখেছেন। এখন দেখার বিষয়, দীর্ঘ বিরতির পর ইতালির মাটিতে তার এই দ্বিতীয় অধ্যায় কতটা সফল হয়।