রাজশাহী নগরীর মতিহার এলাকায় এক চাউরাস্কার ঘটনা বাতাসে ভাসছে। রেস্টুরেন্ট ব্যবসার চকচকে স্বপ্ন দেখিয়ে এক যুবক-যুবতী দম্পতি পরিবারের লোকের কাছ থেকে প্রায় ১৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছে। পুলিশের দ্রুত অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনা স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে আলোচনার খোরাক হয়ে উঠেছে।
মামলার সূত্রে জানা যায়, ২৮ এপ্রিল নূরে জান্নাত নিতু (২৩) এবং তার স্বামী শেখ মারুফ আহমেদ (২৩)-কে মতিহার থানা পুলিশ আটক করে। তল্লাশি চালিয়ে তাদের কাছ থেকে একটি বহনযোগ্য গণনাযন্ত্র বা ল্যাপটপ এবং একটি উন্নতমানের লেন্সসহ ডিজিটাল ক্যামেরা উদ্ধার করা হয়। দম্পতির আস্তানা ছিল রাজশাহীর বোয়ালিয়া এলাকার মোন্নাফের মোড়ের একটি ভাড়া বাসা। উভয়েই রাজশাহীর উদয়ন কলেজ অব বায়োসায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। নিতু নওগাঁ জেলার মহাদেবপুর উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দা।
মামলার বাদী ডা. মো. সামিউল ইসলাম সজীব, যিনি পারিবারিক সম্পর্কের সুবাদে এই ফাঁদে পড়েন। অভিযুক্ত দম্পতি ‘রাজশাহী মেট্রো’ নামে একটি আধুনিক রেস্টুরেন্ট প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা তুলে ধরে। প্রথমে জায়গা বুক করার অজুহাতে টাকা নেয়, তারপর ব্যবসা চালু করা, সরঞ্জাম ক্রয়, স্টাফ নিয়োগের নানা নামে ধাপে ধাপে প্রায় ১৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। সজীব বলেন, “সম্পর্কের কারণে বিশ্বাস করে দিয়েছিলাম। কিন্তু পরে অগ্রগতির খোঁজ নিতে গেলে তারা কালক্ষেপ শুরু করে। শেষে হুমকি দিয়ে ফোন বন্ধ করে দেয়। আর কোনো উপায় না দেখে থানায় মামলা করতে হয়।”
পুলিশের কথা জানা গেল, অভিযোগের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক তদন্ত শুরু করে অভিযান চালানো হয়। মতিহার থানার কর্মকর্তারা বলছেন, প্রাথমিক তদন্তে প্রতারণার স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে। উদ্ধারকৃত ল্যাপটপ আর ক্যামেরা থেকে আরও তথ্য বের করা হচ্ছে। তদন্ত চলমান, শেষ হয়ে আইনানুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই ঘটনা রাজশাহীর ব্যবসায়িক চক্রে সতর্কতার ইঙ্গিত দিচ্ছে – বিশেষ করে ছোট বিনিয়োগের প্রলোভনে পড়ে যাতে না যাওয়া যায়।